Bangladesh India Sundarban Region Cooperation Initiative
বাংলাদেশ ভারত সুন্দরবন
যৌথ উদ্যোগ
Tuesday, August 4, 2020

সুন্দরবন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বিস্তৃত অনন্য বাস্তুতন্ত্রে সমৃদ্ধ একটি ভূভাগ, ও সামগ্রিকভাবে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ব-দ্বীপ অঞ্চল। এটি বিশ্বের একমাত্র ম্যানগ্রোভ জঙ্গল যেখানে বাঘের আবাস যা কিনা ১০,২৬০ বর্গ কিলোমিটার (~ ৬০% বাংলাদেশে এবং বাকিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত) অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত । সুন্দরবন একটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ। রয়েল বেঙ্গল টাইগারের পাশাপাশি সুন্দরবন অসাধারণ জীব বৈচিত্র্য সমৃদ্ধ এবং একটি আকর্ষনীয় পর্যটন স্থল ।
কিন্তু পাশাপাশি এর আর একটি দিকও রয়েছে। সুন্দরবন, বহুদিন ধরেই সামাজিক ও অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে পিছিয়ে থাকা ও প্রথাগত উন্নয়নে সমস্যাপূর্ণ একটি অঞ্চল; জলবায়ু পরিবর্তনের হঠাৎ এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলি সাম্প্রতিক সময়ে একে আরো বিপন্ন করে তুলেছে । বিভিন্ন গবেষণা থেকে দেখা যাচ্ছে যে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ছাড়াও দুই দেশের সুন্দরবনে বাস করা প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গভীর বিপদের সম্মুখীন। যেখানে ভারতীয় সুন্দরবনে ৪৫ লক্ষ মানুষ বাস করছে; বাংলাদেশে প্রায় ৭৫ লক্ষ মানুষ ‘সুন্দরবন ইনফ্লুয়েন্স জোন’ (এস.আই.জেড) এর মধ্যে বসবাস করছে। সুন্দরবন এখন একটি অতি গুরুত্ত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাবিত অঞ্চল।
এই প্রেক্ষাপটে, ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন সংগঠন সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের সঠিক সংরক্ষণ এবং এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর যথাযথ সুরক্ষার জন্যে দুই জাতীয় সরকার (ভারতবর্ষ ও বাংলাদেশ) এবং রাজ্য সরকারের (পশ্চিমবঙ্গ সরকার, ভারতবর্ষ) সঙ্গে একযোগে কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য ছিল সুন্দরবনের বিপন্নতা, বিশেষ করে জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদকে, বিশ্বের সামনে তুলে ধরা। পরবর্তীকালে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা একযোগে কাজ করতে শুরু করে ও অবশেষে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ভারত ও বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির মধ্যে বেশ কয়েকটি আলোচনা হয়। অবশেষে ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ ভারত সুন্দরবন রিজিওনাল কোঅপারেশন ইনিশিয়েটিভ (বি.আই.এস.আর.সি.আই)’, নামে একটি আন্তঃদেশীয় মঞ্চ তৈরী হয় সুন্দরবন সংক্রান্ত কাজগুলি প্রকৃত সমন্বয়ের সঙ্গে করার জন্যে।

 

বি.আই.এস.আর.সি.আই অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলি হলো:

• ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার এসোসিয়েশন (IWA); ঢাকা, বাংলাদেশ
• অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF); দিল্লী, ভারত
• ইনস্টিটিউট অফ ডিফেন্স স্টাডিস এন্ড এনালাইসিস (IDSA); দিল্লী, ভারত
• পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (PRI); ঢাকা, বাংলাদেশ
• এনভায়রনমেন্ট গভর্নন্ড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেসন (EnGIO); কলকাতা, ভারত
• ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (WWF), ভারত

সহায়তায়
• বিশ্ব ব্যাঙ্ক

এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, বিশ্ব ব্যাঙ্ক ORF, EnGIO ও The Third Pole কে দায়িত্ব দেয় এবিষয়ে একটি মিডিয়া স্ট্রাটেজি তৈরী করার জন্যে, সেই স্ট্রাটেজির অন্যতম অংশ হলো সুন্দরবন সম্পর্কীয় একটি ওয়েব পোর্টাল তৈরী করা । এই তিনটি সংস্থার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নীচে দেওয়া হলো:

অবজার্ভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ORF); দিল্লী, ভারত

১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত, ORF সমৃদ্ধ ভারতবর্ষ ও ন্যায়সঙ্গত পৃথিবী গঠনের উদ্দেশ্যে সঠিক নীতি তৈরী ও এবিষয়ে চিন্তাভাবনাকে সাহায্য করতে দায়বদ্ধ।

এনভায়রনমেন্ট গভার্নন্ড ইন্টিগ্রেটেড অর্গানাইজেসন (EnGIO); কলকাতা, ভারত

১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত, EnGIO একটি অলাভজনক সংস্থা যা দু দশক ধরে বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে কাজ করছে; যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মিডিয়া কমিউনিকেশন।

দ্য থার্ড পোল (The Third Pole); দিল্লী, ভারত

The Third Pole একটি বহুভাষিক মঞ্চ যার লক্ষ্য হলো হিমালয়ের জলসম্পদ এবং সেখান থেকে আসা নদীগুলি সম্পর্কে তথ্য সংগৃহীত করে আলোচনায় উত্সাহ দেওয়া।