Bangladesh India Sundarban Region Cooperation Initiative
বাংলাদেশ ভারত সুন্দরবন
যৌথ উদ্যোগ
Saturday, July 11, 2020
1 মে 2019

ইছামতি; রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় নদী

ইছামতী এমন এক আন্তঃদেশীয় নদী যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমানা হিসাবে কাজ করে এবং গভীরভাবে বাংলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও সাহিত্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইছামতী নদী পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে প্রবাহিত হয়েই আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে বাংলাদেশে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুরহুদা উপজেলায় প্রবেশ করেছে । এটি তারপর বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং ভারতের নদিয়া ও উত্তর ২৪-পরগনা জেলার সংযোগস্থল নাগাদ পশ্চিমবঙ্গে পুনর্প্রবেশ করেছে । তারপর ইছামতি উত্তর ২৪-পরগনা জেলার মধ্যে দিয়ে বনগাঁ, স্বরূপনগর, বাদুরিয়া এবং হাসনাবাদ হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
ইছামতি তার প্রবাহে বারবার ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবেশ করেছে এবং কোথাও কোথাও আন্তর্জাতিক সীমানা তৈরী করেছে, বিশেষ করে ভারতের ২৪-পরগনা জেলার হাসানাবাদ থেকে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর পর্যন্ত ।
যদিও ইছামতি বাংলাদেশের বহু জেলাকে ছুঁয়ে গেছে, যেমন চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও সাতক্ষীরার মতো বেশ কয়েকটি জেলা; কিন্তু নদীটির যাত্রার প্রধান গতিপথ ভারতীয় অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে থাকাকালে ইছামতি নিওডাঙ্গা, হানারসোনাই, শরতখাল ও দাঁতভাঙ্গার মতো বেশ কয়েকটি নদীতে মিশেছে। সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়, এটি কালিন্দী নামে একটি ছোট উপনদী তে মিশেছে এবং যা পরবর্তীকালে ইছামতি-কালিন্দি নামে পরিচিত। অবশেষে নদীটি রায়মঙ্গল নদীতে গিয়ে পড়েছে এবং তারপর দুটি নদীর যৌথ প্রবাহ বঙ্গোপসাগরে মিশে যায়।
ইছামতি নদী বাংলার সামাজিক-সাংস্কৃতিক ইতিহাস ও সাহিত্যে গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। মোগল শাসনকালে বিখ্যাত ‘বারো ভূঁইয়াদের’ (১২ জন স্থানীয় রাজা)একজন রাজা প্রতাপাদিত্যের সাম্রাজ্য এই নদীর পাশে অবস্থিত ছিল। বাংলার দুই বিখ্যাত সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বিভূতিভুষন বন্দোপাধ্যায় তাদের সাহিত্যে ইছামতি নদীটিকে অমর করে গেছেন । বনগাঁতে ইছামতি নদীর তীরে বিভূতিভুষনের বাড়ি ছিল এবং তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’ তেও ইছামতির নামটি তিনি বহুবার ব্যবহার করেছিলেন; পাশাপাশি ইছামতী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম প্রিয় নদী ছিল। রবীন্দ্রনাথ, মাঝে মধ্যেই এই নদীপথে তাঁর জমিদারি তত্ত্বাবধানের কাজে শিলাইদহ যেতেন এবং এই যাত্রাগুলির সময় তিনি অসংখ্য চিঠি, কবিতা এবং গান রচনা করেছিলেন। এমন কি তিনি ইছামতি নদীর মতো হওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন এক কবিতায় !
ইছামতি-কালিন্দির কিছু অংশ, বিশেষ করে যোগিনী ঘাটের কাছে যেখানে এটি যমুনার সাথে মিশেছে; সেটি পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় । অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের পূর্নিমায় হাজার হাজার মানুষ এখানে পুন্যস্নান করেন।যমুনা একটি ছোট উপনদী যা পশ্চিমবঙ্গে ইছামতি-কালিন্দিতে মিশেছে। ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশের জেলেরাই তাদের নৌকায় নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা লাগিয়ে এই নদীপথ ব্যবহার করেন। কয়েক বছর আগে অবধিও ইছামতির মাঝখানে একসঙ্গে দুই দেশের দূর্গা প্রতিমা বিসর্জন দেওয়ার রীতি ছিল; উভয় দেশের হাজার হাজার মানুষের কাছে যা ছিল এক দর্শনীয় প্রদর্শনী । একটি আন্ত:দেশীয় নদী হিসেবে এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল । নানান কারনে গত কয়েকবছরে এই সম্মিলিত বিসর্জনের প্রথা বেশ খানিকটা সীমিত হয়ে পড়েছে ।

Leave a Reply