Bangladesh India Sundarban Region Cooperation Initiative
বাংলাদেশ ভারত সুন্দরবন
যৌথ উদ্যোগ
Thursday, October 22, 2020
18 জুলাই 2019

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়ছে বাঘের আক্রমন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনে মানুষের ওপর বাঘের আক্রমন বাড়ছে ; বাড়ছে বাঘের আক্রমনে মৃতের সংখ্যা । যদিও কোনো সরকারী তথ্য নেই তবু মানুষ ও বাঘের সংঘাত নিয়ে কাজ করা গবেষকরা দাবি করেন যে আশির দশক থেকে বাঘের আক্রমনে প্রায় ৩০০০ মানুষ মারা গেছেন ।
“এটা ঘটনা যে গত কয়েক বছর ধরে মাছ ধরার পরিমাণ ক্রমেই কমে আসার কারণে মৎসজীবিরা গভীর বনাঞ্চলের কাছাকাছি অঞ্চলে বেশি সময় কাটাতে বাধ্য হচ্ছে ; বিশেষত: বাঘ আছে এমন দ্বীপগুলির গায়ে লাগানো সরু খালগুলির আশেপাশে, যা বাঘের আক্রমনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়” জানালেন দক্ষিণবঙ্গ মৎসজীবি ফোরাম-এর পক্ষে মিলন দাস । মিলন সম্প্রতি ২০ জন মহিলাকে কলকাতায় এনেছিলেন যাদের স্বামীরা বনাঞ্চলে জীবিকা অর্জনের সন্ধানে গিয়ে বাঘের আক্রমনে মারা যায় । এই নারীরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ ও অন্যান্য সাহায্যের দাবি জানিয়েছেন ।
কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ও সুন্দরবন বিশেষজ্ঞ সুগত হাজরা জানাচ্ছেন যে সুন্দরবনের জলবায়ু পরিবর্তন এই বাঘ মানুষ সংঘাত বৃদ্ধির পিছনে অন্যতম কারণ । “জলবায়ু পরিবর্তন , বিশেষ করে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাষ্প বেশি তৈরী হচ্ছে , ফলে বাড়ছে জলে লবনাক্ততার পরিমান । পাশাপাশি নদীগুলির ওপরের অঞ্চল থেকে ক্রমেই মিষ্টি জল আসার পরিমান কমে যাওয়ার কারণেও সুন্দরবন অঞ্চলে লবনাক্ততা বাড়ছে । যেহেতু মাছ জলের পরিবেশগত বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল; তাই ক্রমেই সুন্দরবনে মাছের পরিমাণ কমছে” জানালেন হাজরা । হাজরা আরো জানান যে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বাজারে সুন্দরবন কাঁকড়ার ক্রমবর্ধমান বাড়তি চাহিদাও সেখানকার সাধারণ পুরুষ ও মহিলাদের বন্যদ্বিপের কাছাকাছি যেতে বাধ্য করেছে এবং বাঘের আক্রমনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে । মৎসজীবিরা জানাচ্ছেন যে কাঁকড়ার চাহিদা ও দাম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে ।
সরকারী পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারত ও বাংলাদেশ উভয়দেশেই প্রতিবছর গড়ে ২০ জন বাঘের আক্রমনে মারা যান , যদিও স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী বাঘের আক্রমনে মৃতের সংখ্যা আসলে অনেক বেশি । বস্তুত অঞ্চলের মানুষ sundarbansonline.org কে জানান যে প্রতি বছর শুধুমাত্র ভারতীয় সুন্দরবনে গড়ে ১০০ জন মানুষ বাঘের আক্রমনে মারা যান ।
পশ্চিমবঙ্গ বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী বাঘের আক্রমনে মৃতের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মানুষ মারা গেছেন হয় বনের মধ্যে বা বনের লাগোয়া অঞ্চলে । প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে ৭৭ শতাংশ বাঘের আক্রমন ঘটে মাছ ধরার সময়, ১৩ শতাংশ মধু সংগ্রহের সময় এবং ৬ শতাংশ কাঁকড়া ধরার সময় । আরো জানা গেছে পাঁচ ভাগের চার ভাগ আক্রমনই ঘটেছে সংকীর্ণ খাল বরাবর ভাঁটার সময় কাজ করতে গিয়ে কেননা ওই রকম পরিস্থিতিতে বাঘের আক্রমন করতে সুবিধা হয় ।
“স্পষ্টতই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সুন্দরবনের মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপুল ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ও এইসব মানুষের নিশ্চিতভাবেই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে । বস্তুত ঠিক এই বিষয়টি নিয়েই বর্তমানে আমরা আন্তর্জাতিক স্তরে আন্দোলন করছি ও দাবি তুলছি যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ইতিমধ্যেই আক্রান্ত মানুষদের সাহায্যের জন্য ‘লস ও ড্যামেজ’-এর অধীনে একটি পৃথক তহবিল তৈরী করতে হবে” sundarbansonline.org কে জানালেন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ActionAid য়ের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রধান হরজিত সিং ।

Leave a Reply