Bangladesh India Sundarban Region Cooperation Initiative
বাংলাদেশ ভারত সুন্দরবন
যৌথ উদ্যোগ
Tuesday, September 22, 2020
1 মে 2019

নদীর পাড়ে রোদ পোহানো কুমীর

বাঘের পরেই, কুমীর হল সুন্দরবনের পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে চর্চার বিষয় I বিশেষ করে শীতকালে, নদীর পাড়ে কুমিরের রোদ পোহানোর ছবি, সুন্দরবনের অ্যালবামে থাকবেই। নোনাজলের কুমীর(Crocodylus porosus), এছাড়াও যে এসচুয়ারিন ক্রোকোডাইল (মোহনার কুমির); ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় কুমীর; সামুদ্রিক কুমীর ইত্যাদি নামেও পরিচিত ; যাবতীয় জীবন্ত সরীসৃপের মধ্যে বৃহত্তম ও সেই সঙ্গে নদীতে থাকা সবচেয়ে বড় শিকারী।এই প্রজাতির পুরুষ কুমীর দৈর্ঘ্যে ৭ মিটার (২৩ ফুট) অবধি পৌঁছাতে পারে তবে সাধারণত ৬ মিটার (১৯.৭ ফুট) এবং ১০০০ থেকে ১২০০ কেজি (২,২০০-২,৬০০ পাউন্ড) ওজনের মধ্যে হয়ে থাকে। স্ত্রী-কুমীর অনেক ছোট হয় এবং সাধারণত ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) দৈর্ঘ্যের বেশী হয়না।

নামটি থেকেই বোঝা যায় যে এই প্রজাতির কুমীর সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাস করতে পারে, তবে সাধারণত এরা নোনাজল সমৃদ্ধ বাদাবনে, মোহনা, বদ্বীপ, অগভীর হ্রদ এবং নদীর নিম্নপ্রবাহে বসবাস করে। বর্তমানে পাওয়া প্রজাতিগুলির মধ্যে এই প্রজাতিটির আবাসস্থল সবচেয়ে বিস্তৃত, যা ভারতের পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ জায়গায় ও উত্তর অস্ট্রেলিয়া জুড়ে বিস্তৃত। আগে এদের দক্ষিণ চীনেও পাওয়া যেত।

নোনাজলের কুমীর একটি অত্যন্ত বড়,সুযোগসন্ধানী এবং মাংসাশী শিকারী। বেশিরভাগ শিকারকে এরা জলে টেনে হত্যা করে তাদের গোটা শরীরটাই গিলে ফেলে। এটি তার নিজের এলাকায় ঢোকা যে কোনও প্রাণীকেই শিকার করতে সক্ষম; যেমন হাঙ্গর, মিষ্টি জলের এবং সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি বা কাঁকড়া জাতীয় জীব, বিভিন্ন সরীসৃপ, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী, এমনকি মানুষকেও। তাদের বিশাল আকার, আগ্রাসী স্বভাব এবং বিস্তৃত বাসস্থানের কারণে, নোনাজলের কুমীরকে নীল নদীর কুমিরের মতই মানুষের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক কুমির প্রজাতি হিসাবে গণ্য করা হয়।

ভারতে, নোনাজলের কুমীর ভিতরকণিকা এবং সুন্দরবনের লবণাক্ত ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে পাওয়া যায়। সুন্দরবনের কুমীর দেখার সবচেয়ে ভাল সময় হল শীতকালে যখন কুমির প্রায়ই দিনের বেলায় নদীর তীরে রোদ পোহায় । সুন্দরবনের কুমীর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ডিম পাড়ে। তারা বনের ভিতরে বালি বা কাদার মধ্যে গর্ত করে ডিম পাড়ে। মা কুমির একটি ঋতুতে ২০ – ৩০ টি ডিম পাড়ে এবং ৫০ – ৬০ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চারা বাইরে আসে।
নোনা জলের কুমীর বাঘের মত খুনিতে পরিণত হতে পারে। আগে বহুক্ষন ধরে এরা শিকারকে নজর করে ; এবং যখন শেষমেষ শিকার তাদের আয়ত্তের মধ্যে এসেছে বলে মনে করে তখন বিদ্যুত গতিতে আক্রমন করে।

সুন্দরবনে কুমীরের সংখ্যা সম্পর্কে অধুনা কোনও তথ্য পাওয়া যায়না । ভারতের জীববিজ্ঞানী থারুন নায়ার সহ চার জন গবেষকের করা ‘হিউমান ক্রোকোডাইল কনফ্লিক্ট ইন সাউথ ইস্ট এশিয়া এন্ড ইরান’ নামে একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে “ভারতীয় কুমীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কর্মসূচির কারণে ১৯৭৬ সালে নোনা জলের কুমীরের সংখ্যা ৯৬ থেকে বেড়ে আনুমানিক ১৬৪০ হয়েছে ২০১২ সালে”। ভগবতপুর কুমির প্রকল্প ভারতীয় সুন্দরবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র। এটি পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কুমির প্রকল্প, যা লোথিয়ান আইল্যান্ড এবং সপ্তমুখানি নদীর মোহনার কাছে অবস্থিত। কুমীর সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এটি পর্যটকদের সুন্দরবন ভ্রমনকে আরো রোমাঞ্চকর করে তোলে।

পর্যটকরা নৌকা বা লঞ্চ থেকে তাদের দেখতে পারেন। কুমীর সুন্দরবনে সর্বত্র রয়েছে তবে তাদের নন্দবালা খাল, পশুর নদী, শীলা-গাং, ঝাঙ্গড়া-খাল, শাফলা-খাল, ভদ্র-গাং, মরাভোলা নদী, পাথুরিয়া গাং, ভগবতপুর ও সজনেখালী অঞ্চলের মতো কিছু জায়গায় তুলনামূলক ভাবে বেশি দেখা যায়।

Leave a Reply